শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:বগুড়ার শাজাহানপুরে দশম শ্রেণীর ছাত্র ফাহিম ফয়সাল শিশির(১৬) হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ এজাহারভুক্ত দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হল, উপজেলার সাজাপুর উত্তর ফকিরপাড়া গ্রামের মৃত রুস্তম আলী আকন্দের পুত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন(২৫) ও বেতগাড়ী এলাকার নুর আলমের পুত্র উমর আলী (২২)। বুধবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার মাঝিড়া ইউনিয়নের সাজাপুর বানারশি চড়াপাথারের কচু ক্ষেত্রের পানি সেচের ড্রেনের ভিতর থেকে সাজাপুর ফকিরপাড়া গ্রামের শাহাদত হোসেন সাজুর পুত্র সুলতানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র ফাহিম ফয়সাল শিশিরের ছুরিকাঘাতের ক্ষত বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের গলা বুক ও পিঠে ৫৭টি ছুরিকাঘাতের চিহৃ রয়েছে। উপুর্যপুরি ছুরিকাঘাতে হত্যার পর কাদা দিয়ে ফাহিমের বুকের ডান পাশে ইরেজি অক্ষর এন এবং বাম পাশে এস লিখে রেখে যায় হত্যাকারীরা। এ ঘটনায় ফাহিমের মা জান্নাতী খাতুন শাপলা বাদি হয়ে মঙ্গলবার রাতেই আব্দুল্লাহ আল মামুন ও উমর আলীকে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা ৫ জনকে আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। নিহত ফাহিমের মা জান্নাতী খাতুন শাপলা জানান, আসামী উমর আলী তার পুত্র ফাহিমের বন্ধু। অপর আসামী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে ফাহিমের দাদা ও চাচার পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে গত সোমবার আব্দুল্লাহ আল মামুন বন্ধুদের সামনে ফাহিমকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। একই দিন রাত সাড়ে ১১ টার দিকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় ফাহিম। এরপর আর ফিরে আসেনি। পরদিন মঙ্গলবার সকালে ফাহিমের মৃতদেহ পড়ে থাকার খবর পান। আব্দুল্লাহ আল মামুন বন্ধুদের সহায়তায় ফাহিমকে হত্যা করেছে। শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। হত্যার রহস্য উদঘাটন ও অন্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।