1. nobinbogra@gmail.com : Md. Nobirul Islam (Nobin) : Md. Nobirul Islam (Nobin)
  2. bd.momin95@gmail.com : sojibmomin :
  3. bd.momin00@gmail.com : Abdullah Momin : Abdullah Momin
  4. bd.momin@gmail.com : Uttarkon2 : Uttar kon
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
আমাদের লক্ষ্য কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো : প্রধানমন্ত্রী বগুড়া জেলা পরিষদের নব নিযুক্ত প্রশাসক হিসেবে যোগদান করলেন আহসানুল তৈয়ব জাকির নন্দীগ্রামে দেওতা খানকার ছাদ ঢালাই কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি মোশারফ আদমদীঘিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা আশিক গ্রেফতার আদমদীঘি ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা খাল-নদী খননের মাধ্যমে দেশের খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন জিয়া: -প্রতিমন্ত্রী বারী খরা সহিঞ্চু বারি গম-৩৩ জাতের মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত বগুড়া-৬ সদর আসনের উপনির্বাচনে জামায়াত প্রার্থীর প্রচারণা শুরু পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে রোটারী ক্লাব অব বগুড়ার আয়োজনে দুস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে কালাইয়ে কামার পল্লিতে ব্যস্ততা বেড়েছে

  • সম্পাদনার সময় : রবিবার, ৩ জুলাই, ২০২২
  • ১৩৯ বার প্রদশিত হয়েছে

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি ঃ কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার কামার পল্লিতে কর্ম ব্যস্ততা বেড়েছে। কোরবানির পশু জবাই ও গোস্ত প্রস্তুতের জন্য এখন চলছে চাপাতি, দা, বটি, ছোরা, ছুরিসহ নানা হাতিয়ার তৈরি কাজ। ভাঁতির মাধ্যমে কয়লার আগুনে বাতাস দিয়ে লোহার খন্ডকে দগদগে লাল করছেন। সেই আগুনে লাল হওয়া লোহার খন্ডকে শরীরের সবটুকু জোড় একত্র করে হাতুড়ি দিয়ে একের পর এক ঠ্যাং ঠ্যাং করে আঘাত করছেন কামারেরা। সবারই হাত, পা, মুখ কালিতে ভরা। অসহনীয় উত্তাপে তাদের শরীর দরদর করে বইছে ঘাম। তীব্র ব্যস্ততার চাপে ক্লান্ত কারও কাছে ঠাই পাচ্ছিল না। তাদের একটাই লক্ষ সামনে কোরবানির ঈদ। আর এই ঈদের জন্য পশু জবাই করা, চামড়া-ছাড়ানো, মাংস ও হাড় কাঁটার জন্য নানা ধরণের বাহারি আকারে লৌহজাত সামগ্রী তারা তৈরী করছেন। কোরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে তাদের কর্ম ব্যস্ততা ততই বারছে। বর্তমান তারা খুব ব্যস্ত সময় পার করছেন। সরেজমিনে ঘুড়ে দেখে গেছে, কালাই উপজেলার কামার পল্লিতে সারা বছরই কামারদের তৈরী লোহার সামগ্রীর চাহিদা থাকে। কিন্তু মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে কামার শিল্পীদের এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। সারা বছর খুব একটা হাতে কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদকে ঘিরে বেড়ে যায় তাদের কর্মব্যস্ততা। কয়লার গণগণে আগুনে রক্তিম আভা ছড়ানো চাপাতি, বটি বা ছুরির ওপর পড়ছে হাতুরির আঘাত। আঘাতের পর আঘাতে রূপ দেওয়া হচ্ছে চাপাতি, ছুরি, বটিসহ নানা ধরনের ধারালো জিনিসপত্রের। আর আগামী দুই/এক সপ্তাহ এই কর্মতৎপরতা থাকবে। কোরবানির পশু জবাই করা, চামড়া ছাড়ানো, মাংস ও হাড় কাঁটার জন্য হরেক ধরণের লৌহজাত সামগ্রী বানাচ্ছেন। কেউ দিচ্ছেন লৌহজাত সামগ্রীকে শান। কেউ সাহায্য করছেন অন্য সহকর্মীকে। তাদের বেশি ভাগেই কাপড় অর্ধাঙ্গ জুড়ে আর পরনের লুঙ্গি ও গেঞ্জি ময়লা দেখা যাচ্ছে। আরাম-আয়েশ, ডুব-গোসল, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, সময়মত খাদ্য গ্রহণ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে গল্পগুজব প্রায় সবই বন্ধ। কেবল সহকর্মীর সঙ্গেই চলছে একটু আকটু কথা, তাও সংশ্লিষ্ট কাজের আর কিছু কথা হচ্ছে ক্রেতার সঙ্গে। কেউ ঐসব লৌহজাত সামগ্রী তৈরী শেষে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাতে পাইকারী ও খুচরা বিক্রি করছেন। কেউ দোকান বসিয়ে তাদের নাম দেওয়া লৌহজাত সামগ্রীগুলো আকার ভেদে বিভিন্ন দামে ছুরি, দা, পাগলু-১, পাগলু-২, চাপাতি, ছোরা, বটি বিক্রি করছেন। আর কোরবানি দাতারা পশু জবাইয়ের জন্য আকারের ভেদে ঐসব লৌহজাত সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন। এদিকে, ক্রেতারা বলছেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার ছুরি-চাপাতি এবং দা-বটির দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। আর বিক্রেতাদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, লোহা ও কয়লার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব হাতিয়ার তৈরি করতে খরচ বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কামাররা। উপজেলার পুনট এলাকার কামারপট্টির নির্মল কর্মকার বলেন, গত বছর থেকে এ বছর কয়লা, লোহা, শান দেওয়ার পাথরসহ সব কাঁচামালের দাম বেড়েছে। তবে পারিশ্রমিকের বা মজুরির কোনো পরিবর্তন তেমন ঘটেনি। কাঁচামালের দাম বাড়লেও তৈরি পণ্য সেই অনুপাতে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা যাচ্ছে না। সারাবছর কম-বেশি আমাদের কাজ ছিল, এখনো তার চেয়ে একটু বেশি কাজ করতে হচ্ছে। এক কথায় কোরবানির এ সময়টায় কামারপল্লীর পুরোনো সেই জৌলুস ফিরে এসেছে।
সেখানে আরেক লিটন কর্মকার নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, বহু বছর ধরে এ পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকে ব্যবসা পরিবর্তন করে ফেলেছেন। কিন্তু ভিন্ন কিছু করার অভিজ্ঞতা না থাকায় কামারের পেশাই পড়ে আছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুর দাম বেড়েছে, মানও বেড়েছে। এখন বাজারে একটি বড় দা ওজন ও আকার ভেদে ৩শ ২০ থেকে ৪শ ৫০ টাকা, চাপাতি প্রকার ভেদে সাড়ে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা, বিভিন্ন আকারের ছোরা ১শ ৫০ থেকে ৩শ’ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আবার বিভিন্ন সাইজের ছোট ছোরা ৩০ থেকে ১শ’ টাকা, বটি ২শ থেকে ৪শ’ টাকার মধ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্রেতাদের কাছ থেকে দা-বটিতে ধার বা শান দেওয়ার জন্য যেভাবে পারছি সেভাবে চেয়ে নিচ্ছি । উপজেলার পুনটহাটে দা-ছোরা কিতে আসা জাবেদ বলেন, কোরবানি ঈদে পশু জবাই ও গোস্ত কাটা জন্য একটা দা ৩শ ২০ টাকা ও একটা ছোরা ১শ৩০ টাকা দিয়ে কিনলাম।
কারাই পৌরসভার আরেক ক্রেতা মো. নুরুজ্জামান বালেন, ঈদে নামাজ শেষে আমরা নিজেরাই পশু জবাই করি। তাই লৌহজাত সামগ্রী কিনতে এসেছি। এসে শোনতেছি গত বছরের চেয়ে এবার দাম অনেক বেশি চাচ্ছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © 2025 The Daily Uttar Kon. All Rights Reserved.
Powered By Konvex Technologies