মহাদেবপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা: সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে উত্তরাঞ্চলের শস্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁর মহাদেবপুরে তিন ফসলি কৃষি জমিতে পুকুর খননের মহোৎসব চলছেই। প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের পর দিন খননযন্ত্র (ভেকু) ব্যবহার করে কৃষি জমিতে অবাধে এসব পুকুর খননের কাজ চললেও রহস্যজনক কারণে নিরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় প্রশাসন। সচেতন মহলের দাবী প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই দিনের পর দিন চলছে এসব পুকুর খননের কাজ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এ বছর প্রায় ৩শ হেক্টর কৃষি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন করা হয়েছে। এভাবে কৃষি জমি কমতে থাকলে খাদ্যে উদ্বৃত্ত এ উপজেলাতেও খাদ্য উৎপাদন কমে গিয়ে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিশেষ প্রয়োজনে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খননের প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিতে হয়। উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসকের অনুমতির জন্য প্রায় দেড় শতাধিক আবেদন পড়েছে। এদের কাউকেই অনুমতি দেয়া হয়নি। অনুমতি না পেলেও বন্ধ নেই পুকুর খনন। দিনরাত ভেকু মেশিন দিয়ে বিভিন্ন স্থানে পুকুর খনন চলছেই। স্থানীয়রা জানান, কখনো কখনো উপজেলা প্রশাসন কিংবা উপজেলা কৃষি অফিসের লোকজন কোনো কোনো স্থানে অভিযান চালিয়ে বন্ধ করলেও রহস্যজনক কারণে দুই একদিন পর আবার পুরোদমে চলে পুকুর খননের কাজ। সম্প্রতি চঁন্দাশ ইউনিয়নের নিচ লক্ষীপুর মাঠে সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায় চাঁন্দাশ ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদান নবী রিপনও প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই নিচ লক্ষীপুর মাঠে তার পৈত্রিক পাঁচ বিঘা জমিতে পুকুর খনন করছেন। তার এ পুকুর খননের ফলে পার্শ্ববর্তী প্রায় ৫শ বিঘা জমি জলাবদ্ধ হয়ে ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদান নবী রিপনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনুমতি না নিয়েই পুকুর খননের কথা স্বীকার করে জানান, ওই জমিটি একটু নিচু হওয়ার কারণে সেখানে পুকুর খনন করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অরুণ চন্দ্র রায় জানান, কৃষি জমি নষ্ট করে পুকুর খননের কোন সুযোগ নেই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান মিলন বলেন, ফসলি জমিতে পুকুর খননের অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।