দেশের একটা বিরাট অংশের মানুষ বন্যার পানিতে দুঃসহ জীবনযাপন করলেও সরকার সেদিকে কোনো নজর দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি বলেন, সরকার উন্নয়নের নামে দুর্নীতি করে বিদেশে টাকা পাচার করছে। বুধবার (২২ জুন) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে বই প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪১তম শাহাদৎবার্ষিকী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে আমরা যখন এখানে কথা বলছি তখন এদেশের একটা বিরাট অংশের মানুষ বন্যার পানিতে দুঃসহ জীবনযাপন করছে। তারা ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সরকার সেদিকে কোনো নজর না দিয়ে, তাদের ত্রাণের জন্য কোনো ব্যবস্থা না করে, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের উৎসব নিয়ে মেতে আছে। যারা জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে, যারা নিজেদেরকে মনে করে এদেশের উন্নয়নের একমাত্র দাবিদার, তারা উন্নয়নের নামে দুর্নীতি করে বিদেশে টাকা পাচার করছে। তারা এদেশের মানুষকে অত্যন্ত কষ্ট দিচ্ছে। একদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি অন্যদিকে বন্যা মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়ে, দলীয়করণ করে এই রাষ্ট্রকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।’ তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধুমাত্র একজন সৈনিকই ছিলেন না, তিনি শুধুমাত্র একজন প্রেসিডেন্টই ছিলেন না, তিনি এই দেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এখানেই সমস্যা। এ দেশের একটি দল নিজেদেরকে স্বাধীনতার দাবিদার মনে করেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে খাটো করার জন্য, তার সকল অবদানকে ম্লান করার জন্য, আজকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে।’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজকে অন্তরীণ। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ, তাকে বিদেশে পাঠানোর জন্য এবং আমাদের নেতা যিনি আট হাজার মাইল দূরে নির্বাসিত অবস্থায় আছেন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য এবং দেশের ৩৫ লাখ মানুষ, যাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে, তাদের মুক্ত করার জন্য আমরা যে আন্দোলন শুরু করেছি, সেই আন্দোলনে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। একমাত্র জিয়াউর রহমানের আদর্শ যদি আমরা মেনে চলি তাহলে আমরা সফল হব।’ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনাদেরকে পড়তে হবে। না পড়লে দেশকেও জানা যাবে না জিয়াউর রহমানকেও জানা যাবে না। তাই আসুন আমরা সবাই পড়ি। জিয়াউর রহমানের বই পড়ি এবং অন্যান্য বই পড়ি এবং জ্ঞানের চর্চা করি।’ পাঠাগারের সভাপতি ও মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে এবং বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য দফতরে সংযুক্ত আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন দীপ্তি, সহ-সভাপতি ফরহাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সঞ্জয় কুমার দে রিপন, অর্পণ সংঘের সভাপতি বিথীকা বিনতে হোসেন প্রমুখ।