পাবনা প্রতিনিধি: প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে পাবনার বাসিন্দা ও পটুয়াখালি বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালকসহ পাঁচজনের নামে চারটি মামলা করেছে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত সোমবার (২০ জুন) বিকেলে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সুত্রধর বাদী হয়ে দুদক কার্যালয়ে এই মামলাগুলো দায়ের করেন। মামলা নং ০১, ০৮, ১৭ ও ১৮। এক নম্বর মামলার আসামী হলেন, সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার তেঘরি কাটারবাড়ী গ্রামের জসিম উদ্দিন মন্ডলের ছেলে আকবর আলী (ছদ্ম নাম জাহাঙ্গীর আলম)। দুদক সুত্র জানায়, আকবর আলী ১৯৮৩ সালে জাহাঙ্গীর আলম নাম ধারণ করে তৎকালীন বিডিআর’র সিপাহী পদে চাকুরি নেন। জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ী সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী ইউনিয়নের কোনাগাতি গ্রামে। ১৯৮৩ সালে দু’জন বিডিআর এর সিপাহী পদে চাকুরির জন্য লাইনে দাঁড়ান। জাহাঙ্গীর আলম টিকলেও আকবর আলী অকৃতকার্য হন। পরে জাহাঙ্গীর আলম চাকুরিতে যোগ না দিলে আকবর আলী তার নাম ব্যবহার করে চাকুরি নেন। আট নম্বর মামলার আসামীরা হলেন, পাবনা শহরের শালগাড়িয়া এলাকার মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুস সালাম এবং একই অফিসের অফিস সহায়ক বেড়া উপজেলার মাসুমদিয়া গ্রামের মৃত নঈমুদ্দিনের ছেলে কামরুল ইসলাম। তারা দু’জন বেড়া উপজেলার পৌর ভুৃমি অফিসে কর্মকালীন সময়ে যোগসাজশ করে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ভুমি উন্নয়ন করের যথাক্রমে ৫৯ হাজার টাকা ও ৪৯ হাজার টাকা আত্মসাত করেন। সতের নম্বর মামলার আসামী হলেন, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিভাগের সহকারী শিক্ষক ফিরোজা খাতুন। তিনি ২০০৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে চাকুরি গ্রহণ করেন এবং ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেতন ভাতা বাবদ সরকারের ১৪ লাখ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেন। আঠারো নম্বর মামলার আসামী হলেন, পটুয়াখালী বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক আব্দুল জলিল মিয়া। তিনি পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বেড়হাউলিয়া গ্রামের মৃত আছাব আলী সরকারের ছেলে। দুদক জানায়, ১১ জুলাই ১৯৮৯ সাল থেকে ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত জ্ঞাত আয়ের বাইরের ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৩৩৬ টাকা তিনি অসদ উপায়ে অর্জন করেন। মামলার বাদী পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সুত্রধর বলেন, মামলাগুলি দুদক নিজেই তদন্ত করবে। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে এ সব মামলার প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা মেলায় মামলা করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত পাবনা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক খায়রুল হক বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা হবে।