বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সারা দেশের জনগণের সমর্থনে যিনি ধন্য ছিলেন, যার হাতে এখন শাসনব্যবস্থা থাকার কথা, তাকে বন্দী করা হয়েছে। বন্দী করেছে কারা? যারা অবৈধ পন্থায় ক্ষমতায় আছে। নিশি রাতে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় আছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নয়া পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় জিয়া পরিষদের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি ও সুস্থতা কামনায় এক দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সাধারণ জনগণ সমর্থনধন্য নেত্রী, সুষ্ঠু ভোট হলে তিনি ক্ষমতায় থাকতেন কিন্তু তিনি বন্দী। আর যারা অন্যায়-অবিচার, রাতের ভোট দিনে করেছে, গুম-খুন এমন কোনো অবৈধ পন্থা নাই, যা তারা ব্যবহার করে নাই- এমন একজন নেত্রীর নেতৃত্বে সরকার ক্ষমতায়। তারা নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এখন পদ্মা সেতুর সার্কাস চলছে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা অনেক সার্কাস দেখেছি, বা শুনেছি; রাশিয়ান সার্কাস। আমাদের দেশেও অনেক রকম সার্কাস আছে। এখন একটা সার্কাস চলছে সেটা হলো- পদ্মা সেতুর সার্কাস। কী ঘটছে। কত কথা সরকারের কাছ থেকে। পদ্মা নদীর ওপরে একটা সেটু তো আগেই হয়েছে। তার নাম লালন সেতু। এই সেতু বেগম খালেদা জিয়ার আমলে হয়েছে। কই তখন তো আমরা এতো হৈচৈ করিনি। আর তারা রেড অ্যালার্ট জারি করার মতো অবস্থা করেছে। তাদের নেতাকর্মীদেরকে সতর্ক থাকতে বলেছে। অথচ বর্তমান ঘোষিত বাজেটের কারণে এদেশের মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষ আধাবেলা খায়, আধাবেলা না খেয়ে থাকে। মনে করেছে পদ্মা সেতু দেখলে সবকিছু ভুলে যাবে। শিক্ষিত বেকারত্বের হার দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচাইতে বেশি বাংলাদেশে। এটা শুধু কোভিডের কারণে হয় নাই । তার আগে থেকেই এই ভয়ংকর বেকারত্ব।
এই সরকার সকল সরকারি অফিসগুলোকে আওয়ামী লীগের কার্যালয় বানিয়েছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, আমি আগেও বলেছিলাম এই নির্বাচন কমিশন হচ্ছে আওয়ামী লীগের কিচেন কমিশন। এটা আবার প্রমাণিত হলো। এরা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মতো কাজ করছে। এই কারণেই আওয়ামী লীগের অধীনে সকল নির্বাচন বিএনপি প্রত্যাখ্যান করেছে।
তিনি বলেন, কুমিল্লার সিটি নির্বাচন বিএনপি প্রত্যাখ্যান করেছে। ওই এলাকার একজন সংসদ সদস্য নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছেন। সেটা নিয়ে অভিযোগ জানালে নির্বাচন কমিশন বলেছে, একজন সম্মানিত ব্যক্তিকে কি টেনে-হিঁচড়ে বের করা যায়। এতেই বোঝা যায়- এই নির্বাচন কমিশন কেমন। তিনি আরো বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কত দুর্যোগ মোকাবেলা করে আজীবন জনগণের পাশে রয়েছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শেখ হাসিনা মুচলেকা দিয়ে বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যাযননি। কারণ এদেশের জনগণের জন্য। এটা তার বৈশিষ্ট্য-ইতিহাস-ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে অতিক্রম করে বেগম খালেদা জিয়া কখনো নতজানু হননি। তিনি এক ভয়ঙ্কর অসুস্থতার মধ্য দিয়ে দিনানিপাত করছেন। অথচ হাজী সেলিমের মতো একজন সংসদ সদস্যের যা সাজা হয়েছে তিনি যান বিদেশে চিকিৎসা নিতে। আর একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার ঘোষকের সহধর্মিনী তিনি চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছেন। আমরা আল্লাহর কাছে তার সুস্থতা কামনা করছি।