বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে না দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপি নেতাদের নিঃশেষ করে দিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত রোববার সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে সস্ত্রীক ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এই কথা বলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে বিমানবন্দরে যাতে বাধা দেওয়া না হয় সে বিষয়ে হাইকোর্টের অনুমতি এবং চিকিৎসার কাগজপত্র দেখানোর পরও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক বিষয়কে আমলে নেয়নি। তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে বাধা প্রদান করায় আবারও প্রমাণিত হল-সরকার খালেদা জিয়াসহ সিনিয়র নেতাদের সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে তিলে তিলে নিঃশেষ করতে করতে চায়। সরকার এখন এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।’ আলালকে বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেয়ার ঘটনাকে অমানবিক, ন্যাক্কারজনক ও সরকারের ‘একরোখা নীতিরই বহিঃপ্রকাশ’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘ভোটারবিহীন অবৈধ সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর জুলুমের ধারাবাহিকতায় আলালকে নিয়মিত চেকআপের জন্য ভারতে যেতে বাধা দিয়েছে। সুচিকিৎসায় বাধা দেওয়া বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর একটি জঘন্য মানবতাবিরোধী কাজ। সরকারের এই ন্যক্কারজনক ও নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ডে ধিক্কার জানাই, প্রতিবাদ জানাই।’ অবিলম্বে আলালকে ভারতে চিকিৎসার জন্য যেতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বিবৃতিতে বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশ হতে বরগুনা জেলাধীন আমতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকির, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান হিরুসহ ১২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের উচ্ছেদ করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সরকার। সরকার উন্নয়নের নামে মূলত বিএনপিকে ধ্বংস করার কাজই নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে।’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী সরকার নিজেদের টিকিয়ে রাখতে মরণকামড় দিতে শুরু করেছে। তবে এভাবে সর্বনাশা হিংসার আশ্রয় নিয়ে সরকার নিজেদের রক্ষা করতে পারবে না। কারণ জনগণ এখন সরকারের ভয়াবহ দুঃশাসন প্রতিরোধে প্রস্তুতি নিচ্ছে।’