নীলফামারী প্রতিনিধি: উদ্বোধনের এক বছর পর চালু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত রেলপথ যোগাযোগ ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ ট্রেন। নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি স্থলবন্দর রেল স্টেসন দিয়ে ভারতের হলদিবাড়ি সীমান্ত হয়ে ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি রুটে চলবে ট্রেনটি। আগামীকাল ১ জুন বুধবার থেকে এই যাত্রা শুরু হবে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে যাত্রার সিডিউল তথা সময়, বিরতি স্টেসন ও ভাড়া সংক্রান্ত তালিকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এতে চিলাহাটি সীমান্ত স্টেসন থেকে যাত্রী উঠানামা বা টিকিট করার ব্যবস্থা না থাকায় উত্তরবঙ্গবাসীর মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা ভ্রমন, চিকিৎসা বা ব্যবসায়ীক কাজে এই রুটে চলাচলের সুবিধা পেতে নীলফামারী জেলার মধ্যে সৈয়দপুর, নীলফামারী, ডোমার বা চিলাহাটি স্টেসনে টিকিট প্রাপ্তির ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন। নয়তো বৃহত্তর রংপুর দিনাজপুর অঞ্চলের লোকজন সুবিধা বঞ্চিত হবে। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ষাটের দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শিলিগুড়ির যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এই রুটে ট্রেন চলাচল করত। কিন্তু ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এই ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। দীর্ঘ ৫৭ বছর পর ২০২১ সালের মার্চে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নিউজলপাইগুড়ি পথে নতুন করে রেল চলাচলের উদ্যোগ নেয়া হয়। বাংলাদেশ- ভারতের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে এই ট্রেনের নাম দেয়া হয় ‘মিতালী এক্সপ্রেস’। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনসেবা ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু, করোনা মহামারির কারণে উদ্বোধনের পর গত এক বছরে ট্রেনটি চালু করা না গেলেও বর্তমানে করোনা সংক্রমণ কমে আসায় বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের সিদ্ধান্তেই আগামীকাল ১ জুন থেকে ট্রেনে যাত্রী পরিবহন শুরু হচ্ছে। বিগত একবছর ধরে এই রুটে মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে। এতে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে নতুন দ্বার উন্মোচন হয়েছে। যাত্রীবাহি ট্রেন চলাচল শুরু হলে আরেক ধাপ অগ্রগতি ঘটবে ভারত-বাংলাদেশ রেলপথ যোগযোগে। ৫৮ বছর পর এই রুটটি পূন:রায় পরিপূর্ণ রেলরুট হিসেবে চালু হবে।