1. nobinbogra@gmail.com : Md. Nobirul Islam (Nobin) : Md. Nobirul Islam (Nobin)
  2. bd.momin95@gmail.com : sojibmomin :
  3. bd.momin00@gmail.com : Abdullah Momin : Abdullah Momin
  4. bd.momin@gmail.com : Uttarkon2 : Uttar kon
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
আমাদের লক্ষ্য কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো : প্রধানমন্ত্রী বগুড়া জেলা পরিষদের নব নিযুক্ত প্রশাসক হিসেবে যোগদান করলেন আহসানুল তৈয়ব জাকির নন্দীগ্রামে দেওতা খানকার ছাদ ঢালাই কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি মোশারফ আদমদীঘিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা আশিক গ্রেফতার আদমদীঘি ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা খাল-নদী খননের মাধ্যমে দেশের খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন জিয়া: -প্রতিমন্ত্রী বারী খরা সহিঞ্চু বারি গম-৩৩ জাতের মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত বগুড়া-৬ সদর আসনের উপনির্বাচনে জামায়াত প্রার্থীর প্রচারণা শুরু পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে রোটারী ক্লাব অব বগুড়ার আয়োজনে দুস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

আদমদীঘিতে ডাঙ্গায় বেদের অস্থায়ী বসতি

  • সম্পাদনার সময় : সোমবার, ৯ মে, ২০২২
  • ১৩৬ বার প্রদশিত হয়েছে

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বেদে মানে ভ্রমণশীল বা ভবঘুরে। তারা একদল রহস্যময় মানুষ। এরা মূলত আমাদের দেশে ‘বাদিয়া’ বা ‘বাইদ্যা’ নামে পরিচিত একটি ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠী। মানবেতর জীবন-যাপন করা এই মানুষগুলোর একটাই পরিচয় তারা ‘বেদে’। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলভেদে তাদের একেক নাম আর বেঁচে থাকার জন্য বিচিত্রসব পেশা। যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়ায় তারা দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। নর-নারী, শিশুর অদ্ভুত তাদের চেহারা, অদ্ভুত তাদের কথাবার্তা। নদী নির্ভর বাংলাদেশে বেদেদের একমাত্র বাহন হলো নৌকা। নৌকায় সংসার, আবার নৌকা নিয়েই দেশ-দেশান্তরে ঘুরে বেড়ানো। বেদেরা জীবনকে একঘরে রাখতে চায় না। তারাও প্রকৃতির ভালোবাসাকে স্বীকার করে এই সুন্দর পৃথিবীতে সমাজের মানুষের সাথে মিলেমিশে বেঁচে থাকতে চায়। প্রকৃতির মধ্যেই এরা জীবনের বৈচিত্রের সন্ধান খোঁজে। বেদেদের এই সন্ধানই আমাদের লোকসাহিত্যেও অন্যতম উপজীবি অংশ বেদে সম্প্রদায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বৈচিত্রময় ও সমস্যাসঙ্কুল হলো বেদে সম্প্রদায়ের জীবন। মূলত তাদের প্রধান কাজ হলো কখনো তাবিজ-কবজ বিক্রি করা আবার কখনো বা সাপের খেলা দেখানো। খুব অবাক হলেও সত্যি, বেদেদের একমাত্র উপার্জনের পথ বলতে তাবিজ-কড়ি বিক্রি ও সাপের খেলা দেখানোই। কিন্তু দেশে বর্তমান আধুনিকতার ছোঁয়ায় তাদের তাবিজ-কবজ ও সাপের খেলা দেখানো অনেকাংশে কমে গেছে। তবে গ্রামে গঞ্জে তাদের এখনো মাঝে মধ্যে দেখা মিলে। সরজমিনে জানা যায়, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার পোঁওতা রেলগেট সংলগ্ন এলাকার একটি পরিতাক্ত জায়গায় দীর্ঘ প্রায় ১৫/২০ বছর যাবৎ ১০টি ঝুপড়ি দিয়ে আস্তানা গেড়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে। তাদের মধ্যে রয়েছে ১৫ জন পুরুষ ও ২০ জন শিশু ও মহিলা রয়েছে। তারা দেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার লহজং থানার কোমারভোগ ইউনিয়নের ফড়িয়া গ্রাম থেকে এসেছে। কিন্তু আগের মত তাদের কাছ থেকে কেউ আর খেলা দেখতে বা তাবিজ-কবজ নিতে চায় না। সারাদিন ঘুরে ফিরে যা পায় তা দিয়ে কষ্টের মাঝে দিনাতিপাত করতে হয়। তাই এখানে বসবাসরত সকল বেদে সদস্যদের মাঝে দেখা দিয়েছে নিশ্চিয়তার ছায়া। তারা এখন কি খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করবে। তবে তারা সরকারি সহায়তা কামনা করেছে। আবার এদের মধ্যে যারা দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করছে তারা অনেকে এখানকার ভোটারও হয়েছেন। কিন্তু তারা পায়নি কোন সমাজিক ও নাগরিক অধিকার। এই গোত্রের সদস্যরা সবাই মুসলমান। তাদের বসবাসের ঝুপড়িতে নেই কোন বৈদ্যুতিক আলো বা ফ্যানের ব্যবস্থা। এমনকি তাদের কোন পয়নিঃস্কাশনের ব্যবস্থাও নেই। পোঁওতা এলাকায় বসবাসরত বেদে পল্লীর প্রধান জাকির হোসেন জানান, পদ্মা নদীর ভাঙনে তাদের ভিটামাটি নিচিহ্ন হয়ে গেছে। তাই বছরের পর বছর তারা যাযাবরের মত এই এলাকায় চলে এসে আশ্রয় নেয়। তাবিজ-কবজা, সাপের খেলা দেখানো কমে গেছে তাই তারা টোটকা জাতীয় ওষুধ বিক্রি করে ছেলে-মেয়ের নিয়ে অতিকষ্টে জীবিকা নির্বাহ করছি। তিনি আরোও বলেন, সরকার যদি আমাদের এখানকার স্থায়ী বসবাসের জন্য সরকারি কোন জমি দান বা সরকারি বাড়ি বরাদ্দ দেয় তাহলে খুবই উপকার হতো। বেদে পল্লীর সেলিম উদ্দীন জানান, স্থায়ীভাবে আমাদের কোথাও থাকা হয়না বলে তেমন লেখাপড়া করা হয়নি আমাদের। জন্মের পর থেকে যাযাবরের মত জীবন আমাদের। তিনি বলেন, আমরা যেখানেই যাই না কেন, কোন মেম্বার, চেয়ারম্যান আমাদের খোঁজ নেয় না। আগের মত টোটকা ওষুধও কেউ নিতে চায় না। আমরা খুবই অবহেলিত সম্প্রাদায়। বেদে পল্লীর সালমা আক্তার জানান, আমি ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি। আমি আরোও পড়াশুনা করতে চাই। মানুষের মত মানুষ হতে চাই।  এ ব্যাপারে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্রাবণী রায়ের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আদমদীঘি এলাকায় বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করে তা আমার জানা নেই। তবে তারা যদি আমাদের সাথে যোগাযোগ করে তাহলে আমরা সরকারি ভাবে সহযোগিতা করবো বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © 2025 The Daily Uttar Kon. All Rights Reserved.
Powered By Konvex Technologies