ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার জমিতে বেআইনিভাবে থানা ভবন নির্মাণ করছে না। জনস্বার্থে রাজধানীর কলাবাগানে তেঁতুলতলায় সরকার কর্তৃক বরাদ্দ দেয়া জমিতেই নির্মাণ করা হচ্ছে কলাবাগান থানা। এর সামান্য দূরেই রয়েছে কলাবাগান খেলার মাঠ। যেখানে খেলাধুলাসহ সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করা যাবে। খেলার মাঠের বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টি ডিএমপির এখতিয়ারভুক্ত নয়। মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো: ফারুক হোসেন। এ ব্যাপারে ডিএমপি থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি কলাবাগানের তেঁতুলতলায় খেলার মাঠে থানা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ–সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার বিভিন্ন সংগঠনসহ মানবাধিকারকর্মীরা। দেশের বিশিষ্টজনেরাও বিবৃতি দিয়ে খেলার মাঠে থানা নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। থানার জন্য বিকল্প জায়গা খুঁজে বের করার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে। আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন সৈয়দা রত্না ও তার ছেলে পিয়াংশু। এ নিয়ে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মা-ছেলেকে থানায় আটকে রাখারও কঠোর সমালোচনা করেন দেশের বিভিন্ন পেশার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা। পরে প্রথমে মাকে ও পরে ছেলেকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার ডিএমপির পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে কলাবাগান থানার জন্য ধানমন্ডি মৌজার ০.২০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন ২০১৭-এর সকল বিধি-বিধান অনুসরণ করা হয়েছে। কলাবাগান থানার জন্য অধিগ্রহণকৃত ০.২০ একর জমি জরিপ অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তি এবং সরকারের পক্ষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কলাবাগান থানার জন্য ০.২০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া যায়। সরকারি প্রয়োজনে ও জনস্বার্থে রাজউকের কোনো আপত্তি নেই মর্মে ছাড়পত্র পাওয়া যায়। জায়গাটির প্রস্তাবিত ভূমি আরবান রেসিডেন্সিয়াল জোন হিসেবে চিহ্নিত আছে মর্মে নগর উন্নয়নের ছাড়পত্র এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্র পাওয়া গেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ওই জমিতে এলাকাবাসীর নিরাপত্তার সুবিধার্থে স্থায়ীভাবে কলাবাগান থানা স্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর ডিও লেটার প্রদান করেছেন। ঢাকা জেলা প্রশাসক সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে জমি অধিগ্রহণের জন্য সুপারিশসহ ভূমি মন্ত্রণালয়ের মতামত প্রেরণ করেন। সরকারের কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটিতে কলাবাগান থানার জন্য ০.২০ একর জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জমির ক্ষতিপূরণ মূল্য বাবদ ডিএমপি কমিশনার বরাবর ২৭ কোটি ৫৪ লাখ ৪১ হাজার ৭১০/৯২ টাকার প্রাক্কলন প্রেরণ করেন ঢাকার জেলা প্রশাসক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সে টাকার ব্যয় মঞ্জুরি পাওয়া যায়। ঢাকা জেলা প্রশাসককে প্রাক্কলিত টাকা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। গত ৩১ জানুয়ারি ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় কর্তৃক সরেজমিনে ডিএমপিকে জমির দখলভার হস্তান্তর করা হয়। কলাবাগান থানার ০.২০ একর জমি অধিগৃহীত ও দখল হস্তান্তর বিষয়ে বাংলাদেশ গেজেটের ৬ষ্ঠ খণ্ডে ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। গত ২৭ মার্চ জমির নামজারি ও জমাভাগকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ফারুক হোসেন বলেন, প্রস্তাবিত থানার জায়গা তেঁতুলতলা মাঠ থেকে কিছুটা দূরেই কলাবাগান মাঠ রয়েছে। সেখানে বাচ্চাদের খেলাধুলাসহ সামাজিক অনুষ্ঠানের সুযোগ রয়েছে। জনস্বার্থে সরকার কলাবাগান থানা নির্মাণের জন্য প্রচলিত আইন মেনে জমি বরাদ্দ দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ডিএমপি কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার জমিতে বেআইনিভাবে থানা ভবন নির্মাণ করছে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিকল্প খেলার মাঠ ব্যবস্থার বিষয়টি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত নয়।