ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী দল দমনের সকল ব্যবস্থা করেছে জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এভাবে বিরোধী দল দমন করে বিশ্বের কোনো স্বৈরশাসক গদি রক্ষা করতে পারেনি। আপনারাও পারবেন না। সাহস থাকলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সহ গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি দিন দেখবেন জনগণের প্রবল স্রোত আপনার সিংসহানের দিকে কিভাবে ধেয়ে যায়। মঙ্গলবার দুপুরে এক প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন। রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তি দাবিতে প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে গণতন্ত্র ফোরাম। রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের মানুষ ভয়ংকর দুঃসময়ের মধ্যে বসবাস করছে। তাদের কথা বলা ও লেখার স্বাধীনতা নেই। অথচ সংবিধান আমাদের কথা বলা ও লেখার স্বাধীনতা দিয়েছে। কিন্তু তা শেখ হাসিনার অদৃশ্য ইশারায় বন্ধ। দেশের গণতন্ত্রের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড নেই। কিন্তু তারা গণতন্ত্রকে ভয় পায়। গণতন্ত্রের মানে তো বিরোধী দল আপনাদের সমালোচনা করে আপনাদের ভুল ধরিয়ে দিবে। কিন্তু আপনারা সেটা সহ্য করতে পারেন না। ‘দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল নেই’ প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলছেন দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল নেই। আসলে বনের নেকড়ে সকল প্রাণী খেয়ে ফেলার পর বলছে যে আর প্রাণী নেই। আরে বিরোধীদল শক্তিশালী বলেই তো তাদেরকে আপনি কারাগারের ভয় দেখিয়ে ক্ষমতায় আছেন। তাদেরকে গোরস্থানে পাঠিয়েছেন। আসলে বিএনপি ও বিরোধী দল আপনি ভয় পান বলেই তো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তরুণ নেতা ইশরাককে বন্দি করেছেন। শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, রফিকুল আলম মজনু ও সুমন ভুঁইয়াকে বন্দি করেছেন। ‘দুদকে সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির অভিযোগ নাটক’ তথ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের উত্তরে রিজভী বলেন, বিএনপি নাটক করছে। আরে আপনি বলেননি কিসের নাটক? এই নাটক তো বিখ্যাত লেখক বার্নার্ড শ’র নাটক। শেক্সপিয়ারের নাটক। সেখানে বিএনপির মতের প্রতিফলন ঘটেছে। আপনারা তো ক্ষমতায় আসার পর ১১ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছেন। আর আমাদের কাজকে বলছেন নাটক। ওটা তো বাস্তব জীবনের নাটক। আপনারা পদ্মা সেতু, ব্যাংক সহ বিভিন্ন প্রকল্প থেকে লুট করে টাকা পাচার করেছেন। আপনারা মহা দুর্নীতি করেছেন। এজন্যে আপনাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। জনগণ এখন চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আপনাদেরকে অবশ্যই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সহ সকল নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে। সংগঠনের সভাপতি আ ন ম খলিলুর রহমান ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, কাজী মনিরুজ্জামান মনির, ওলামা দলের আহ্বায়ক শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের ডা. জাহেদুল কবির, এমজি মাসুম রাসেল প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি ইসমাঈল হোসেন সিরাজী।