নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: বৃহস্পতিবার সকালে তিস্তার নদীতে হঠাৎ পানি বেড়ে তিস্তা নদীর উপকূল বন্যা দেখা দিয়েছে। হঠাৎ পানি বেড়ে উঠতি বোরধান, কাউন, বেগুন, তরমুজ, শসা ও পেঁয়াজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কয়েক লাখ হেক্টর উঠতি পেঁয়াজ ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় প্রাপ্তির কৃষকের কয়েক শত কোটি টাকার পেঁয়াজ ও জাতীয় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প হতে বন্যার পূর্বাভাস না দেয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কয়েক বছর ধরে রমজান মাসে পেঁয়াজ ও সব্জি জাতীয় ফসলের দাম ছিল আকাশ ছোঁয়া। রমজান মাসকে সামনে রেখে এ বছর তস্তা চরের কৃষক ব্যাপক হারে নদীর উপকূলবর্তী পলিযুক্ত বালু মাটিতে পেঁয়াজ ও সব্জি জাতীয় ফসল চাষ করে ছিল। বেসরকারি একটি এনজিও’র সূত্রে জানা গেছে, তিস্ত নদীর উপকূলে প্রায় এক শত হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতীয় পেঁয়াজ চাষ হয়ে ছিল। এ সপ্তাহে তস্তা চরের পেঁয়াজ কৃষক খেত হতে তুলে মাচাং পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে থাকে। সারা বছর নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত পেঁয়াজ বিক্রি করে বাড়তি আয় করে থাকে। তস্তা চরে কৃষক বাণিজ্যিক ভাবে ব্যাপক হারে আলু তুলে উচ্চ ফলনশীল জাতের পেঁয়াজ চাষ করে ছিল। উৎপাদন হয়ে ছিল বাম্পার। হঠাৎ তস্তা নদীর উজানের পানি ছেড়ে দেয়ায় পেঁয়াজ খেত গুলো তলিয়ে গেছে। শুক্রবার (৮ এপ্রিল) সরেজমিনে িিগয়ে দেখা গেছে কৃষক পরিবারের নারী পুরুষ সকলে মিলে পানির নিচ হতে পেঁয়াজ তুলছে। চরে পেঁয়াজ শুকাতে দিয়েছে। কৃষক শফিকুল ইসলাম (৪২) জানান, পেঁয়াজ পানি হতে তুলে কেটে কুটে শুকাতে দিয়েছি। কৃষক পরিবার গুলো শান্তনা পেতে এই কাজ করছে। পানি পাওয়া পেঁয়াজ ২/৩ দিনের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। মহিষখোচা গোবর্দ্ধন গ্রামের তিস্তার চরের কৃষক মোঃ মমিনুর রহমান (৪৮) জানান, স্থানীয় একটি বেসকারি সংস্থা হতে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করে ছিল। দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে খরচ হয়ে ছিল ১৬ হাজার টাকা। অবশিষ্ট অর্থ পরিবারের অন্য কাজে ব্যয় করেছে। দুই বিঘা জমিতে তার কমপক্ষে ৫০/৬০ মন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়ে ছিল। কমপক্ষে ৮শত টাকা মন দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারলে ৪০/৪৫ হাজার টাকা পেঁয়াজ বিক্রি করা যেত। এবারে সে আশায় গুড়ে বালি হয়ে গেছে।