1. nobinbogra@gmail.com : Md. Nobirul Islam (Nobin) : Md. Nobirul Islam (Nobin)
  2. bd.momin95@gmail.com : sojibmomin :
  3. bd.momin00@gmail.com : Abdullah Momin : Abdullah Momin
  4. bd.momin@gmail.com : Uttarkon2 : Uttar kon
শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
আমরা ক্ষমতায় গেলে রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নকাজ, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করব- তারেক রহমান প্রয়োজনে জীবন দেব, তবু জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে দেব না-জামায়াত আমির সান্তাহারে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি যুব রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ হজরত শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন তারেক রহমান ভারতের সংসদ শ্রদ্ধা জানালো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে একটি দলের শীর্ষ নেতারা পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে: বিএনপি প্রযুক্তি খাত থেকেই ভবিষ্যৎ রচনা হবে : ড. ইউনূস বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র-মার্কিন রাষ্ট্রদূত সহিংসতা বন্ধ করে কল্যাণের রাজনীতির পক্ষে দাঁড়াতে চাই-ডা: শফিকুর রহমান বগুড়ায় আসছেন তারেক রহমান বইছে উৎসবের আমেজ

নওগাঁয় বিদেশি উচ্চমূল্যোর পুষ্টিগুণ সম্পন্ন মালবেরি চাষ হচ্ছে

  • সম্পাদনার সময় : বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০২২
  • ১৬২ বার প্রদশিত হয়েছে

মাহমুদুন নবী বেলাল নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ পুরো গাছজুড়েই থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ, লাল এবং কালো লম্বাটে ছোট ছোট আকারের বিদেশি উচ্চমূল্যোর পুষ্টিগুণ সম্পন্ন মালবেরি ফল। গাছ ভর্তি থোকায় থোকায় ঝুলে রয়েছে মালবেরি। পাতার চেয়ে ফল বেশি ধরে আছে। গাছের পাতা ডিম্বাকার, চমৎকার খাঁজযুক্ত এবং অগ্রভাগ সূঁচাল। আকারে আঙুরের চেয়ে কিছুটা বড় মালবেরি এই ফল। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে ফুল আসে এবং মার্চ-এপ্রিলেই ফল পাকে। তবে সারা বছরই এই ধরে। প্রথম অবস্থায় সবুজ পরে লাল এবং সম্পূর্ণ পাকলে কালো রঙ ধারণ করে। দেখতে খুবই সুন্দর, আকর্ষণীয়। পাকা ফল রসালো এবং টক-মিষ্টি। প্রতিটি গাছ থেকে ৮-১০ কেজি সংগ্রহ করা যায়। এই গাছের চারাও তৈরি করা যায়। খুব সহজেই ছাদে এর চাষ সম্ভব। দুই বছর আগে বিভিন্ন দেশের ৮টি জাতের ১০ টা গাছ সংগ্রহ করে পরীক্ষামূলকভাবে লাগান। প্রথম বছরেই সাফল্য পেয়েছেন নওগাঁর সাপাহার উপজেলার ‘বরেন্দ্র এগ্রো’ পার্কের উদ্যোক্তা সোহেল রানা। প্রথমবারেই ভালো ফলন দেখে ব্যাণিজ্যিকভাবে এই ফল চাষের পরিকল্পনা করে ইত্যে মধ্যেই তিনি চারশ’ চারা তৈরী করেছেন। দ্রুত এক বিঘা জমিতে লাগানো বড়ই গাছ কেটে মালব্রেরি লাগাবেন। ফলে তিনি বেশি লাভবান হওয়ার আশা ব্যক্ত করছেন।  সরেজমিনে জানা গেছে, এ ফল চাষে রোগবালাই খুবই কম। কীটনাশকও তেমন লাগে না। উৎপাদন খরচও কম। শুধু জৈব সার দিলে প্রায় সারা বছরই এই ফল পাওয়া যায়। যেহেতু এই মালবেরি আমদানি নির্ভর ফল। তাই বাজারেও মালবেরি এই ফলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এই ফল ঢাকা শহরে সুপার শপগুলোতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। উদ্যোক্তা সোহেল রানা জানান, বিদেশি উচ্চমূল্যের পুষ্টিগুণসম্পন্ন মালবেরি এই ফল। এই ফলটি বিদেশে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয় এবং বাজারজাত করা হয়। বাজারেও এর ব্যাপক এর চাহিদা রয়েছে। নতুন এই ফলটি আমি পরীক্ষামূলকভাবে থাইল্যান্ড, ভারত, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন জাতের ৮টি জাত ১০টি সংগ্রহ করে এই মালবেরি চাষ করেছি এবং পরীক্ষামূলকভারে প্রতিটা গাছে সাফল্য এসেছে। দ্বিতীয় বছরেও ব্যাপক ফল ধরেছে।  সোহেল রানা আরও জানান, এ ফল চাষে রোগবালাই খুবই কম। কীটনাশকও তেমন লাগে না। উৎপাদন খরচও কম। কলম চারা লাগানো দুই-চার মাসের মধ্যেই এই ফল ধরে। শুধু জৈব সার দিলে প্রায় সারা বছরই এই ফল পাওয়া যায়। যেহেতু এই মালবেরি আমদানি নির্ভর ফল। তাই বাজারেও মালবেরি এই ফলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এই ফল ঢাকা শহরে সুপার শপগুলোতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
বাণিজ্যিকভাবে এই মালবেরি ফল চাষের কথা জানিয়ে এই কৃষি উদ্যোক্তা বলেন, ‘আসছে বছর চারা তৈরি করে বাণিজ্যিকভাবে এই মালবেরি ফল চাষ করবো। এরই মধ্যে চারটি জাত পছন্দ করেছি। চারা তৈরি করে এক বিঘা জমিতে লাগানো বড়ই গাছ কেটে ৪শ’ গাছ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে এই মালবেরি চাষ করবো। আমার এই ফল দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে এই বিদেশি ফল দেখতে অনেকেই আসছে। এরই মধ্যে নওগাঁয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আমার এই মালবেরি বাগান পরিদর্শণ করেছেন। তিনি বাণিজ্যিকভাবে বাগান তৈরি করতে উৎসাহিত করেছেন। তাই আমরা যদি বাণিজ্যিকভাবে এই মালবেরি ফলের চাষ করতে পারি তাহলে স্থানীয়ভাবে পুষ্টির যোগান দেওয়া যাবে এবং স্থানীয় পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে সারাদেশে এর বাজারজাত করা যাবে। যেহেতু এই ফলটি আমদানি নির্ভর এবং বাজারেও এর দাম বেশি। তাই ব্যাণিজ্যিকভাবে এর চাষাবাদ করলে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করবো। যাতে করে মানুষ এই পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ফলটি কিনে খেতে পারে।’ বাগানে মালবেরি ফল দেখতে আসা প্রদীপ পাল জানান, ‘আমি সোহেল রানার বরেন্দ্র এগ্রো পার্কে বিদেশি নতুন জাতের মালবেরি ফলের চাষ হচ্ছে তাই দেখার জন্য আসছি। ফলটি খুবই আকর্ষণীয়। খেতেও সুস্বাদু। শুনলাম ছাদে নাকি এই গাছ লাগানো যাবে। তাই আমিও সোহেল রানার কাছ থেকে চারা নিয়ে গিয়ে আমার ছাদে লাগাবো।’ বরেন্দ্র এগ্রো পার্কে ঘুরতে আসা উম্মে সেহেলী সুলতানা বলেন, মালবেরি গাছগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ফল ধরেছে। দেখে খুবই ভালো লাগলো। থোকায় থোকায় ধরে থাকা ফল দেখতেই ভালো লাগছে। একটা ফল খেয়েও দেখলাম, বেশ ভালো। আমি এখান থেকে চারা নিয়ে আমার বাড়ির ছাদে লাগাবো বলে নিয়ত করেছি।’ আমি সোহেল রানার বরেন্দ্র এগ্রো পার্কে বিদেশি নতুন জাতের মালবেরি ফলের চাষ হচ্ছে তাই দেখার জন্য আসছি। ফলটি খুবই আকর্ষনীয়। খেতেও সুস্বাদু। শুনলাম ছাদে নাকি এই গাছ লাগানো যাবে। তাই আমিও সোহেল রানার কাছ থেকে চারা নিয়ে গিয়ে আমার ছাদে লাগাবো।
স্থানীয় জাহিদুল ইসলাম জানান, ‘সোহেল ভাইয়ের বাগানে মালবেরি এই ফলের গাছটি দেখে খুবই অবাক হয়েছি। এই ফলটি আমাদের এলাকায় আগে কখনও দেখি নাই বা চাষাবাদ করা হয় নাই। সোহেল ভাইয়ের কাছ থেকে শুনলাম বাজারে নাকি এর চাহিদা অনেক। এবং দামও ভালো। তাই আমি মনে করি কৃষকরা যদি মালবেরি এই ফলটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে তাহলে তারা ব্যাপকভাবে লাভবান হতে পারবে।’ কৃষক জয়নাল বলেন, ‘আমার বাড়ি জয়পুরহাটে। সোহেল ভাইয়ের এই বাগান ঘুরতে এসে দেখি মালবেরি গাছ। কয়েকটি ফল খেলাম, খুব সুন্দর লাগলো। এখান থেকে আমি মালবেরি কয়েকটি চারা কিনলাম। লাগানোর পর ভালো ফল ধরলে, বেশি পরিমাণ জমিতে এই মালবেরি চাষ করবো।’
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পরিচালক শামছুল ওয়াদুদ জানান, সোহেল রানা একজন সফল বাগানি। দীর্ঘদিন থেকেই বিভিন্ন ফল, ফুল, আমসহ নানা ধরনের বাগান আছে তার। সম্প্রতি তিনি ৮ রকম জাতের মালবেরি গাছ পরীক্ষামূলকভাবে লাগিয়েছেন। বর্তমানে গাছ থেকে ফল তোলার উপযোগী হয়েছে। প্রতিটি গাছে থেকে প্রায় ৮-১০ কেজির মত ফল পাওয়া যাবে। এখানকার মাটিও মালবেরি চাষের উপযোগী। এছাড়া বাড়ির ছাদে টবেও এর চাষ করা যাবে। এই প্রথম সোহেল রানা বেশি সংখ্যক মালবেরি গাছ লাগিয়েছেন। নওগাঁতে মালবেরি চাষ যেন আগামী বৃদ্ধি পায় সে জন্য চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © 2025 The Daily Uttar Kon. All Rights Reserved.
Powered By Konvex Technologies