দেশের সংবিধান ও রাষ্ট্র এখন সরকারের ইচ্ছাধীন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব।
মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় লিখিত বক্তব্য পাঠকালে এমন অভিযোগ করেন তিনি। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দলীয় উদ্যোগে ‘আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ : বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক ওই সভার আয়োজন করা হয়।সভায় জেএসডি সভাপতি বলেন, সরকার ভোটারবিহীন নির্বাচনে ক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে সংবিধান বহির্ভূত কাজে সম্পৃক্ত করে রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ ভারসাম্য এবং ক্ষমতার বিভাজন বিনষ্ট করে ফেলেছে, প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য ক্ষুণ্ণ করে ফেলেছে। আ স ম আবদুর রব বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির বিশ্লেষণ করতে হবে। কিন্তু ঔপনিবেশিক শাসন কাঠামো বহাল থাকায় গত ৫০ বছরে স্বাধীনতার লক্ষ্য অর্জনে আমরা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করিনি। বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনকে কেবলমাত্র ক্ষমতায় যাওয়া এবং থাকার উপায় হিসেবে বিবেচনা করে। অতীতে যে সকল নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হেরেছে, সে সকল নির্বাচনকে ‘সূক্ষ্ম’ ও ‘স্থূল’ কারচুপি হিসেবে বর্ণনা করে বিতর্কিত করেছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের শীর্ষ এই নেতা বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে ফলাফল পরিবর্তন করে কেন বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি, তার জন্য বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের মতো মানুষকে বেইমান, বিশ্বাসঘাতক ও ষড়যন্ত্রকারীসহ অনেক বিশেষণে অপমানিত করেছে আওয়ামী লীগ। বিচারপতি সাহাবুদ্দিন সবার কাছে নিরপেক্ষতা, সততা ও আস্থার প্রতীক হয়েও আওয়ামী লীগের কাছ থেকে রেহাই পায়নি। আ স ম আবদুর রব বলেন, অপমানে, অবজ্ঞায় এবং উপেক্ষায় ক্ষত-বিক্ষত হয়ে আওয়ামী লীগের আক্রমণের জবাব দিতে গিয়ে, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ নিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ বলেছিলেন- রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়াই ছিল আমার জীবনের বড় ভুল। সবকিছু ওদের মনের মতো হলে আমি দেবতুল্য, না হলে আমি নরাধম। জেএসডি সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগ এই জিঘাংসামূলক রাজনীতি, বিদ্বেষমূলক রাজনীতি সমগ্র সমাজে ছড়িয়ে দিয়ে একটা অযৌক্তিক ন্যায্যতাবিহীন সংস্কৃতির বিস্তার করছে। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রে ‘আওয়ামী লীগ’ ছাড়া অন্য কেউ নির্বাচনে জয়ী হবে এটা আওয়ামী লীগ মেনে নিতে পারে না। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি বলেন, বিরোধী দলে থাকলে ‘নির্দলীয়’ সরকার এবং সরকারে থাকলে ‘দলীয়’ সরকার আওয়ামী লীগের এই ডিগবাজির রাজনীতি বাংলাদেশের রাজনীতিকে ভয়ংকরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা এবং বিশ্বাসকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। সরকার ‘ক্ষমতা’ ও ‘মৃত্যু’ সমকক্ষ করে ফেলেছে। ‘হয় ক্ষমতা’ নয় ‘মৃত্যু’- এটা যে সরকারের প্রতিজ্ঞা সে সরকারের অধীনে নির্বাচনও নিরপেক্ষ হবে তা বিশ্বাস করা হবে নির্বোধের কাজ। আ স স আবদুর রব বলেন, সরকার পরিকল্পিত প্রচারণার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করছে, মনগড়া কাল্পনিক বয়ান উত্থাপন করছে। ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস একটি পরিবারের কাছে বলি দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে ঔপনিবেশিক প্রভুত্বমূলক মানসিকতা। আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ভাসানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য নঈম জাহাঙ্গীর, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন তালুকদার, গণ ফোরামের নেতা আবু সাইদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।