বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন রাজপথে নেমেই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে । নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আসুন এই সরকারকে বাধ্য করি অবিলম্বে তাদেরকে পদত্যাগ করতে হবে তাদের ব্যর্থতার দায় নিয়ে। নিরেপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। এবং নিরেপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় একটা নিরেপেক্ষ ও সুষ্ঠ নির্বাচন দিয়ে জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ বুধবার (৯ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সেচ্চাসেবকদল আয়োজিত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ‘তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে’ এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শুধু চাল, ডাল ও তেলের দাম কমালেই চলবে না। আমাদের জীবনকে জীবনের মতো করে চলতে দিতে হবে। আমাদের কথা বলতে দিতে হবে, আমাদের লেখার স্বাধীনতা দিতে হবে, বিচার ব্যবস্থাকে ন্যায়বিচার ব্যবস্থা করতে হবে এবং পুলিশ ও প্রশাসনকে জনগণের সেবক হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সেই লক্ষ্যে এই সরকারকে বাধ্য করি, অবিলম্বে ব্যর্থতার দায় নিয়ে তাদেরকে পদত্যাগ করতে হবে, নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় একটা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার ও সংসদ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এই হোক আজকের দিনে আমাদের শপথ, প্রতীজ্ঞা ও প্রত্যয়। আসুন, রাজপথে নেমে সেটাকে আমরা আদায় করি।’ সরকার জিনিসপত্রের দাম কমাতে পারবে না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এখান থেকে তারা ভাগ নেন। তাদের নেতারা সিন্ডিকেট করে। সিন্ডিকেট করে তারা সেখান থেকে ভাগ নেন। দুর্নীতিতে তারা সমস্ত দেশকে ভরিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যিনি সারাটা জীবন গনতন্ত্রের জন্য লড়াই করছেন সংগ্রাম করেছেন। এখনও তিনি গনতন্ত্রের জন্য অসুস্থ অবস্থায় গৃহবন্দি হয়ে আছেন। আমাদের স্বপ্ন ভবিষ্যৎ এর স্বপ্ন। যাকে সামনে রেখে একটা মুক্ত স্বাধীন দেশের স্বপ্ন দেখতে চাই। সেই তারেক রহমানকে নির্বাসিত করে রেখেছে। ৩৫ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, আমাদের ৬০০ নেতাকর্মীদের গুম করে রেখেছে। শহশ্রাদিককে হত্যা করেছে পঙু করেছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের আজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘এখন দড়ি ধরে টান মারতে হবে। খানখান করতে হবে। তাদের তক্তেতাউতকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে। জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ‘আমাদের মা, ভাই ও বোনদেরকে টিসিবির ট্রাকের পেছনে দৌঁড়ানো বন্ধ করতে হবে বলেও এসময় মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। এর আগে দুপুর ১টা থেকে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন। মিছিল ও সমাবেশ থেকে নেতাকর্মীরা ‘খালেদা জিয়ার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’সহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগানে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ মুখরিত করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা সমাবেশস্থলের আশপাশে অবস্থান নেন। পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলার বাহিনীসহ অতিরিক্তি পুলিশ সদসদেরও মোতায়েন করা হয়।
আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, সহ-দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হাসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।