নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগের জন্য ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করেছে এ সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিটি। রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন মাধ্যমে আসা ৩২২ জনের তালিকা থেকে অধিকতর যাচাই-বাছাই করে গতকাল মঙ্গলবার এই ১০ জনকে চূড়ান্ত করা হয়। এর মাধ্যমে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব শেষ করল প্রথমবারের মতো আইনী কাঠামোয় গঠিত এই কমিটি। বৃহস্পতিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার হাতে তালিকা তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেবেন কমিটির সদস্যরা।এদিকে নির্ধারিত সময়ের আগেই সুচারুভাবে দায়িত্ব সম্পন্ন করায় সার্চ কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন ও উপহার প্রদান করেন প্রধান বিচারপতি। কমিটি সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে বৈঠকে বিরতি দিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সার্চ কমিটির সদস্যরা। এ সময় প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে সার্চ কমিটির সবাইকে সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশনা সামগ্রী দেয়া হয়। এ সময় প্রধান বিচারপতি সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। সুপ্রিম কোর্টের জাজেজ লাউঞ্জে গতকাল অনুষ্ঠিত কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটি প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। কমিটি সদস্য হাই কোর্টের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন, লেখক-অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক, মহা হিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক (সিএজি) মুসলিম চৌধুরী এবং সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা শেষে ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় সংযোজন বিয়োজনের আর কোনো সুযোগ থাকছে না জানিয়ে তিনি বলেন, তালিকাটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির হাতে পৌছার আগে এটি আর খোলা হবে না। আগামী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় সার্চ কমিটির জন্য সময় দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। ওইদিন সাক্ষাৎ করে হাতে হাতে এই তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেয়া হবে। সেখান থেকেই একজন সিইসি ও চারজন ইসি নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। এরআগে রবিবারের বৈঠকের পর কমিটি প্রধান জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবারই ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষাৎ পাঠাবেন। ওই নামের তালিকা থেকেই অনধিক ৫ জনকে নিয়ে নতুন ইসি গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সার্চ কমিটির সঙ্গে বিশিষ্টজনদের বৈঠকে চূড়ান্ত সুপারিশে থাকা ১০টি নাম প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছিল। সার্চ কমিটি নামের প্রস্তাব আহ্বানের পর পাওয়া ৩২২টি নাম প্রকাশও করেছিল। চূড়ান্ত প্রস্তাবে থাকা ১০ জনের নাম প্রকাশের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি হাসান বলেন, ১০ জনের নাম আমরা প্রকাশ করব না। এটা রাষ্ট্রপতির ডোমেইন। মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে দিলে পরে তিনি যদি বলেন আপনারা প্রকাশ করেন, তাহলে আমরা প্রকাশ করব। এটা তার সম্পত্তি, তার কাছেই দিতে হবে। আমাদের প্রকাশ করার কোনো আইন নাই। কমিটির পঞ্চম সভায় তিন শতাধিক প্রস্তাবিত নাম থেকে যোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে ২০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা হয়। রবিবার ষষ্ঠ বৈঠকে ওই তালিকা আরো ছোট করে ১৩ জনে নামিয়ে আনা হয়। বিচারপতি হাসান বলেন, আমরা এ পযন্ত ছয়টি মিটিং করেছি, চারটি মিটিং করেছি সুশীল সমাজ, পেশাজীবীদের প্রতিনিধির সঙ্গে। প্রথমে ৩২২ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। এ তালিকার সঙ্গে সাংবাদিকদের বৈঠকে আরও কিছু নাম দিয়ে গেছে। নাম দেওয়ার সময় একদিন বাড়িয়েছিলাম। এরপরও বলেছিলাম-কোনো সংগঠন নাম পাঠান তবে তাদের নামও কনসিডারে নেব। সময় বাড়ানোর পর দুটি সংগঠন নাম পাঠিয়েছিল। সব নামের প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে কমিটির পঞ্চম সময় (শনিবার) ২০ জনের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। প্রস্তাবিত নামের বাইরে সার্চ কমিটি নিজেরা কোনো নাম যুক্ত করছে না বলেও জানান তিনি। আইনে বলা হয়েছে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করবে সার্চ কমিটি। আইনে বেঁধে দেওয়া যোগ্যতা, অযোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সুনাম বিবেচনা করে সিইসি পদের জন্য দুইজন এবং নির্বাচন কমিশনারের চারটি পদের জন্য আটজনের নাম তারা প্রস্তাব করবে রাষ্ট্রপতির কাছে। সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার পদে কাউকে সুপারিশের ক্ষেত্রে তার তিনটি যোগ্যতা থাকতে হবে। তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে; বয়স ন্যূনতম ৫০ বছর হতে হবে; কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা সরকারি বা বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত পদে বা পেশায় পদে অন্তত ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।