বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘সরকারের অবস্থা বাতি নিভার আগে হঠাৎ জ্বলে উঠার মতো। সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে পতনের শেষ শিখা জ্বলে উঠছে মাত্র। এটা নিবে যাবে।’ শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতার বাড়িতে পুলিশের হামলা, গুলিবর্ষণ এবং নারীদের উপর হামলার প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গয়েশ্বর বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের বেতন জনগণের টাকায় হয়। সরকার দেয় না। তারা যা খুশি তা করতে পারেন না। গতকাল কেরানীগঞ্জ থানার ওসির মুখ দিয়ে যে বক্তব্য বেরিয়েছে তা অতি সাম্প্রদায়িক। আওয়ামী লীগের একমাত্র ভরসা তো হচ্ছে হিন্দুদের ভোট, আর মালায়ন বলতে তো হিন্দুদেরই বোঝানো হয়েছে। প্রজাতন্ত্রের পোশাক পরিধানকারী ওসির মুখ থেকে এ ধরনের বক্তব্য গর্হিত কাজ। এখন তার পোশাক পরার অধিকার আছে কিনা এটা বিবেচনা করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমার কুমিল্লা ঘটনা দেখিছি সেখানে পুলিশ বক্তব্য দিয়ে কিভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করেছিল। আমরা সে ধরনের পরিস্থিতি চাই না। গতকালের ঘটনার দায় সরকারকে বহন করতে হবে। সেটা পুলিশ হোক, ছাত্রলীগ হোক বা যুবলীগ হোক। সেখানকার জনপ্রতিনিধিকে এর জবাব দিতে হবে।’
দেশটাকে স্বাধীন করার সময় হিন্দু-মুসলিম দেখিনি উল্লেখ করে গয়েশ্বর রায় বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পর আমরা এ ধরনের ব্ক্তব্যের জন্য প্রস্তুত নই। ‘মালায়ন’ বলতে কাকে বুঝিয়েছেন? হিন্দুদের। ইউনিফর্মধারী ওসির মুখ থেকে তা প্রত্যাশা করা যায় না। আমি সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই গতকালের ঘটনার বিচার না করলে কেরানীগঞ্জের জনগণ এর বিচার করবে। আজকে সারা কেরানীগঞ্জের জনগণ ফুঁসে উঠেছে। ভোর থেকে হাজার হাজার মহিলা-পুরুষ এখানে এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘গতকাল বিএনপি নেতার বাড়িতে তার অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে দেখতে যেতে চেয়েছিল নিপুণসহ নেতোকর্মীরা। তাদের ওপর হামলা হয়েছে। ৮৫ বছরের বৃদ্ধার গায়ে হাত দেয়া হয়েছে, মহিলাদের গায়ে হাত দেয়া হয়েছে। শত শত মানুষ আহত হয়েছে। নারী নির্যাতনের নির্লজ্জ চিত্র সারা বিশ্বে ফুটে ওঠেছে। এটি আরেকটি জ্বলন্ত উদাহরণ।’ বিএনপির সিনিয়র এ নেতা বলেন, ‘পুলিশের হুমকিতে আমরা বসে থাকব না। সাংবিধানিক অধিকার- সভা সমাবেশ করার। যারা বাধা দেয় তারা সংবিধান লঙ্ঘন করছে। গতকালের হামলার বিচার দাবি করছি। ওসির বক্তব্যের বিচার দাবি করছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি যদি এর বিচার না করে তাহলে জনগণ এর বিচার করবে।’ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপি খুলনা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডুসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।