সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এ ছাড়া ৫ দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদফতর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। র্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হত পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি হতে পারে। শের উত্তরাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলে তা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে। শুক্রবারের (৪ ফেব্রুয়ারি বৃষ্টির পর শীতের তীব্রতা বেড়েছে কয়েকগুণ। কনকনে ঠান্ডা বাতাসে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। পঞ্চগড়ে হাড় কাঁপানো শীতে খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ চরমে। অসহনীয় ঠান্ডায় ব্যাঘাত ঘটছে স্বাভাবিক কাজকর্মে। ঞ্চগড়ের লক্ষাধিক পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। ত্যপ্রবাহ ও মৃদু বাতাসের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছেন বৃদ্ধ ও কোমলমতি শিশুরা। তীব্র শীতের কারণে গরম কাপড়ের ব্যবসায়ীরা ক্রেতার সাড়া পাচ্ছেন। তবে বিপাকে দিন খেটে খাওয়া মানুষ গুলো।কুয়াশায় হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এদিকে বৃষ্টির পর ঠাকুরগাঁওয়ে জেঁকে বসেছে শীত। এতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে শিশু ও বৃদ্ধরা। কাজের সন্ধানে বেরিয়ে অনেকেই ফিরেছে খালি হাতে। এ ছাড়া নীলফামারী দিনাজপুর ও লালমনিরহাটেও শীতে বিপর্যস্ত খেটে খাওয়া মানুষ। তেঁতুলিয়ায় শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বাড়তি অংশ বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল এবং এর কাছাকাছি উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, রংপুর ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারাদেশের রাতের তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। এছাড়া রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কোথাও কোথাও মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যেতে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় অথবা ৩ দিনে রাতের তাপমাত্রা আরো হ্রাস পেতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। আজ তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ময়মনসিংহে ১৫ দশমিক ৪, চট্টগ্রামে ১৭ ডিগ্রি, সিলেটে ১৫ ডিগ্রি, রাজশাহীতে ১১ দশমিক ৬, রংপুরে ১২ দশমিক ৮, খুলনায় ১৪ দশমিক ৮ এবং বরিশালে ১৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া রাঙামাটিতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৬৯ মিলিমিটার এবং ঢাকায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ মিলিমিটার। পূর্বাভাসে আরো বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। সকাল থেকে ঢাকায় পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। আজ সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ।