তীব্র শীতে কাবু উত্তরাঞ্চল। কনকনে ঠান্ডায় বিপাকে জনজীবন। বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। কুড়িগ্রামে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। কনকনে ঠান্ডায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া, দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। আজ শুক্রবার সকালে জেলার রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার থেকে এ তথ্য মেলে। জানা যায়, গত কয়েকদিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে উত্তরীয় হিমেল হাওয়ার মাত্রা বাড়তে থাকে। যা শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এর ফলে শীতের মাত্রা বেড়ে যায়। এদিকে শীত বেড়ে যাওয়ায় উত্তরের এ অঞ্চলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে। ঘন কুয়াশায় হেড লাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। শুক্রবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকায় অস্থায়ীভাবে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে, আর দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। পরবর্তী তিন দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিন দিনের শেষের দিকে রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে। এ ছাড়া আকাশ আংশিক মেঘলাসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। আজ (শুক্রবার) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আর রংপুরে ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ঢাকায় রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ১০ দশমিক ০, চট্টগ্রামে ১৫ দশমিক ৭ এবং সিলেটে ১৪ রেকর্ড করা হয়। এদিকে রাজারহাটসহ রংপুর ও রাজশাহীতে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। মাঘের কনকনে শীত আর হাওয়ায় কাঁপছে রংপুর অঞ্চল। নদ-নদী ভরা হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা আরও নেমে যাওয়ার শঙ্কা আছে।এতে বিপাকে পড়েছেন ওইসব অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষজন। শ্রমজীবী, রিকশা ও ভ্যানচালকরা কনকনে ঠাণ্ডায় কাঁপছেন, বের হতে পারছেন না কাজে।ওই অঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অফিস বলেছে, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। চলতি শীত মৌসুমে আজ শুক্রবার নীলফামারী জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সৈয়দপুরে। এ দিন এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবস্থিত আবহাওয়া অফিস সকাল ৬টায় এ তাপমাত্রা রেকর্ড করে, যা ছিল জেলায় সর্বনিম্ন।
সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, নীলফামারীর সৈয়দপুরের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। এ মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপামাত্রা ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় আজ। চলতি শীত মৌসুমের মাঘ মাসের শুরু থেকেই নীলফামারী তথা এ অঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার পাশাপাশি হালকা কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে সৈয়দপুরে শীতের তীব্রতা আরো বেড়েছে। হাঁড় কাঁপানো শীতে নিম্ন আয়ের ও ছিন্নমূল মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা শীতজনিত নানা রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। প্রচণ্ড শীতে গ্রামের মানুষজন বেশি কাতর হয়ে পড়েছেন। তারা দিনভর খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের উত্তাপ নিয়ে শীত নিবারণের ব্যর্থ চেষ্টা করছেন।
শুক্রবার দুপুরে শহরের পাঁচমাথা মোড়ে বিমানবন্দর নিচু কলোনির অটোরিকশাচালক গোলাম মোস্তফা জানান, সকালে রোদ দেখে ব্যাাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বের হয়েছি। কিন্তু এখন আকাশ মেঘলা ও হালকা কুয়াশা পড়ছে। ঠাণ্ডায় অটোরিকশা চালাতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। তা ছাড়া শহরের শীতে তীব্রতায় লোকজনের উপস্থিতিও অন্যদিনের তুলনায় অনেক কম। আর শুক্রবার জুম্মার দিন হওয়ায় শহরের দোকানপাটও বন্ধ রয়েছে। এদিকে, তীব্র শীতে অসহায় ও শীতার্ত মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও এবং সামাজিক সংগঠন শীতবস্ত্র বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল।