স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার গাবতলীতে ভোট কেন্দ্রে নৌকা মার্কার কর্মী সমর্থকদের সাথে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংর্ঘষে গুলিতে প্রার্থীর নারী এজেন্টসহ চারজন ও গাবতলীর রামেশ্বরপুর ইউনিয়নে প্রতিপক্ষের সমর্থকদের ছুরিকাঘাতে জাকির হোসেন জাকির (৩২) নামে একজন সহ মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার (৫ জানুযারী) সন্ধ্যায় গাবতলী উপজেলার বালিয়াদিঘী ইউনিয়নের কালাই হাটা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হচ্ছেন, গাবতলী উপজেলার বালিয়াদীঘি ইউনিয়নের কালাইহাটা গ্রামের খোকনের স্ত্রী মেম্বার প্রার্থী কুলসুম আক্তার, একই গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন ও একই গ্রামের মৃত ইফাত উল্লাহ ছেলে আব্দুর রশিদ। অপরদিকে রাজ্জাক নামের আরো একজন গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তার মরদেহ গাবতলী হাসপাতালে রয়েছে। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলী হায়দার চৌধুরী বলেছেন আমাদের কাছে নিহত তিনজনের নাম রয়েছে। ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা না করা নিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে নৌকা মার্কার কর্মী সমর্থকরা। বিক্ষুব্ধ কর্মী সমর্থকরা পুলিশ, বিজিবি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। রাত ৮টার দিকে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আসলে ভোট কেন্দ্রেই ব্যালট পেপার গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এর আগে ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা না করে উপজেলা সদরে ব্যালট পেপার নিতে চায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতে আপত্তি জানায় নৌকা মার্কার প্রার্থী ইউনুছ আলী ফকির ও তার সমর্থকরা। এক পর্যায় তারা ভোট কেন্দ্র ঘেরাও করে। এসময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নৌকা মার্কার কর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। নৌকা মার্কার কর্মীদের সঙ্গে যোগ দেয় অন্যান্য প্রার্থীদের কর্মী ও সমর্থকরা। সংঘর্ষে কয়েক হাজার নারী ও পুরুষ লাঠি সোঠা নিয়ে হামলা চালায় পুলিশ, বিজিবি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে। ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়া লতিফুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিরাপদে উপজেলা সদরে পৌঁছেছে। অপরদিকে, বগুড়ার গাবতলীতে বগুড়ায় ফেসবুক পেজে নির্বাচনের চিত্র তুলে ধরায় প্রতিপক্ষের সমর্থকদের ছুরিকাঘাতে জাকির হোসেন জাকির (৩২) নামে একজন মারা গেছেন। বুধবার দুপুর ২টার দিকে গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের জাইগুলি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জাকির হোসেন জাইগুলি উত্তরপাড়া এলাকার মৃত লয়া মিয়ার ছেলে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বেলা দেড়টার দিকে রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জাইগুলি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাহিরে মেম্বর প্রার্থী সাইদুল ইসলাম (টিউবওয়েল) ও ফেরদৌস হোসেন মিঠুর (ফুটবল) সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা শুরু হলে সাইদুল ইসলামের সমর্থক জাকির হোসেন জাকির ছুরিকাহত হন। বিষয়টি নিশ্চিত করে গাবতলী থানার ওসি (তদন্ত) জামিউল ইসলাম বলেন, প্রতিপক্ষের হামলায় জাকির আহত হলে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল ৪টার দিকে তিনি মারা যান। মামলার প্রস্তুতি চলছে।বগুড়ার ছিলিমপুর মেডিকেল ফাঁড়ির এসআই শামীম হোসেন এ তথ্য দেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত জাকির হোসেন পেশায় একজন রং মিস্ত্রি ছিলেন। তিনি শখের বসে তার ফেসবুক পেজে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লাইভ করতেন। সকাল থেকে জাকির গাবতলী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নির্বাচনের চিত্র লাইভের মধ্যমে তুলে ধরছিলেন। তিনি নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, জাকির হোসেন জাকির গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের জাইগুলি উত্তরপাড়ার মৃত নয়া মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় রং মিস্ত্রি এবং নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) গাবতলী শাখার সদস্য ছিলেন। জাকির ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বর প্রার্থী সাইদুল ইসলামের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন। তিনি তার ফেসবুক আইডিতে ভোট দিতে বিভিন্ন পোস্ট দেন। বুধবার বেলা দেড়টার দিকে জাকির জাইগুলি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কাছে ভোটার প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় অপর প্রার্থী ফেরদৌস হোসেন মিঠুর সমর্থকরা তাকে বাঁধা দেন। গাবতলী থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, নির্বাচনে দুই মেম্বর প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে বিরোধের জের ধরে ছুরিকাঘাতে জাকির হোসেন মারা গেছেন। লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা হলে আসামিদের গ্রেফতার করা হবে। এদিকে বুধবার বিকালে চাঁদপুরের কচুয়া ও হাইমচরে প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। কচুয়ায় ভোট কেন্দ্রের বাইরে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে একজন এবং হাইমচরের নীলকমল ইউনিয়নে ভোট কেন্দ্রের বাইরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।