এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল চলতি মাসের ভেতরেই প্রকাশ করা হবে। এক্ষেত্রে ৩০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের সম্ভাবনা বেশি। সূত্র জানায়, ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। সেদিনিই এসএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশ করার সম্ভাবনা বেশি। তবে তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী মালদ্বীপ সফর থেকে ফেরার পর তা চূড়ান্ত হতে পারে। আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নেহাল আহমেদ জানান, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রস্তুত। চলতি মাসেই ফল প্রকাশ করা হবে। ২৮ থেকে ৩০ ডিসেম্বর সম্ভাব্য তারিখ বলেও জানান তিনি। চলতি বছর তিন হাজার ৬৭৯টি কেন্দ্রে ২৯ হাজার ৩৫টি স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ২২ লাখ ২৭ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে নয়টি সাধারণ বোর্ড থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১৭ হাজার ৬৭৬টি স্কুলের ১৮ লাখ ৯৯৮ জন পরীক্ষার্থী। এছাড়া কারিগরি বোর্ডের আরও এক লাখ ২৫ হাজার ৫৯ জন পরীক্ষার্থী ছিল। অন্যদিকে মাদ্রাসা বোর্ডে মোট তিন লাখ ১০ হাজার ১৭২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। করোনাভাইরাসের কারণে এবার সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মৌলিক বিষয়গুলো বাদ দিয়ে সংক্ষিাপ্ত সিলেবাসের আলোকে কেবলমাত্র বিষয়ভিত্তিক সাবজেক্টে পরীক্ষা দিতে হয়েছে।
আগামী বছরের মার্চ মাসের আগে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি বলেন, আমাদের দুই বছরের অভিজ্ঞতা বলছে, মার্চ মাসের দিকে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। এজন্য মার্চ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। রবিবার রাজধানীর দনিয়া কলেজে আয়োজিত বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব জন্মশতবর্ষ উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ বাড়ছে। সেজন্য সারাদেশে শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম বিস্তৃত করা হচ্ছে। সবাইকে টিকার আওতায় আনা হবে। স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমের দিকে যেতে আরও সময় লাগবে। শিক্ষাক্ষেত্রে আরও অনেক কিছু করার রয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মুখস্থ, পরীক্ষা-নির্ভর ও সার্টিফিকেটসর্বস্ব শিক্ষা নয়- আমরা এমন শিক্ষাব্যবস্থা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি, যেখানে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা দক্ষতা অর্জন করবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য আমাদের তৈরি হতে হবে। তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে। আগের তিনটি বিপ্লবও আমরা ধরতে পারিনি। আইসিটিতে দক্ষ না হলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আমাদের পেছনে ফেলে চলে যাবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমাদের শৈশব থেকে বিজ্ঞানমনষ্ক ও প্রযুক্তিবান্ধব হতে হবে। একইসঙ্গে মানবিক মানুষ হতে হবে। আশা করি, তোমরা দক্ষ, যোগ্য ও সুনাগরিক হবে। দীপু মনি বলেন, আমরা রাজনীতির নামে মানুষ পুড়িয়ে মারা ও ষড়যন্ত্র করতে দেখেছি। বাংলাদেশকে পাকিস্তানের হাতে তুলে দিতে দেখেছি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে দেখেছি। এটা কীভাবে রাজনীতি হয়? এটা হত্যা, রাজনীতি নয়। যে রাজনীতি দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, তরুণদের কর্মসংস্থান হয়, দেশের কৃষ্টি লালন-পালন হয়; সেই রাজনীতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি কে এম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি কামরুল হাসান রিপন প্রমুখ।