আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ চাল পচে গেলে এমন দূর্গন্ধ হয় তা আগে জানতাম না। কথাগুলো বলছিলেন সান্তাহার শহরের একটি সার্টার মিলের চাতালে চাল বাছাই কাজে কর্মরত শ্রমিকরা। প্রায় ৭ মাস ধরে খোলা আকাশের নীচে পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে বেঁধে রাখা সাড়ে ৩ শ’ মেট্টিক চালে পচন ধরে প্রায় ৫ মাস পুর্বে। খাদ্য বিভাগের বাতিল করা নিম্মমানের ভারতীয় চালগুলো শেষ পর্যন্ত পচে মানুষের খাবার অনুপযোগী হয়ে গেছে। খাদ্য অধিদপ্তর থেকে সিদ্ধান্ত জানাতে ঢিলেমির কারনে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। জানা গেছে, দেশের আপদকালিন চালের মজুদ বাড়াতে চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ সরকার ও ভারত সরকার জি টু জি পদ্ধতিতে প্রায় পৌনে তিন লাখ মেট্টিক টন সিদ্ধ চাল আমদানী—রপ্তানীর চুক্তি করা হয়। আমদানি করা বিপুল পরিমান চালের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার মেট্টিক টন চাল সান্তাহার সিএসডিতে খালাস করা হয়েছে। এপ্রিল মাস থেকে রেলওয়ে ওয়াগন ও কন্টেনারে করে আসা চাল গ্রহন করার সময় খাদ্য বিভাগ চালিয়েছে চিরুনী অভিযান। এসময় চুক্তি অনুযায়ী বিনির্দেশ বহির্ভূত (নিম্মমান) ওই পরিমান চাল ফেরত দেওয়া হয় প্রতিনিধির কাছে। সে চাল রেখে দেওয়া হয়েছে সান্তাহারের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। ওই প্রতিষ্ঠানে চালগুলো রাখার জন্য এক মাসের জন্য করা চুক্তি করা হয়। মেয়াদ শেষ হলে পরে তা বৃদ্ধি করা হয় জানিয়েছেন নাহার চাল সর্টার মিল মালিক গোলাম সরোয়ার। এই প্রতিষ্ঠানের চাতালে খোলা আকাশের নীচে রাখা চাল বৃষ্টির পানিতে ও ঘেমে ভিজে গিয়ে পচন ধরা শুরু করে তখনই। খাদ্য বিভাগের বাতিল করা চালগুলো ভারতে ফেরত যাবে না বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি করা যাবে এবং চালের মান কি নির্ধারণ করা হবে সে বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত এখনো মেলেনি বলে জানা গেছে। রপ্তনীকারক ভারত সরকারের সে দেশীয় প্রতিনিধি এনসিসিএস এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি নেফাউল ইসলাম টিটু খাদ্য অধিদপ্তরের কোন সিদ্ধান্ত না মেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে গত প্রায় ৭ মাস ধরে খোলা আকাশের নীচে রাখা চালগুলো পচে মানুষের খাবার অনুপযোগী হয়ে গেছে। সোমবার সান্তাহার শহরের বাইপাস সড়কে অবস্থিত নাহার সর্টার মিলে গিয়ে দেখা গেছে একদল শ্রমিক দিয়ে পচে যাওয়া চালের বস্তা খুলে অপেক্ষাকৃত ভাল চাল বাছাই করা হচ্ছে। এসময় সেখানে চাল পচা গন্ধে টেকা দায় হয়ে পড়ে। শ্রমিকদের নাকে কাপড় বেঁধে চাল বাছাই ও শুকানোর কাজ করতে দেখা যায়। তারা জানায় বাঙ্গালিদের প্রধান খাদ্য ভাত, সেই ভাত তৈরির উপকরণ চাল পচে গেলে এমন দূগন্ধ হয় তা আগে জানা ছিল না। তাছাড়া আমরা গরীব মানুষ দিন মজুরি কাজ না করলে চলে না; সে কাজ সুগন্ধ যুক্ত আর দূর্গন্ধ যুক্ত হোক। আমাদের কাছে পাওয়াই আসল কথা। চালের প্লাস্টিক বস্তা গুলোর গায়ে পরিচাল, খাদ্য মন্ত্রনালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার লেখা রয়েছে।