ফলোআপ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আবারও এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আজ শনিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেল সোয়া পাঁচটায় গুলশানের বাসা থেকে তাকে নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে রওয়ানা করে ৫টা ৪০মিনিটের দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছায় তার গাড়ি বহর। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, শারীরিক চেক আপের জন্য ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে তার মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শ মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যে তিনি হাসপাতালে থাকবেন নাকি বাসায় ফিরবেন। খালেদা জিয়ার হাসপাতালে যাওয়ার খরব শুনে তার বাসভবনের সামনে দলের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ। খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হবে জানিয়ে তার নিরাপত্তার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার। এর আগে ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৫ অক্টোবর তার অস্ত্রোপচার করা হয়। তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন খালেদা জিয়া। এরপর গত ৭ নভম্বের হাসপাতাল ছেড়ে গুলশানে নিজ বাসা ফিরোজায় উঠেন তিনি। ওই দিন গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার একটি মাইনর অপারেশন করা হয়েছে। এখন তিনি আইসিইউতে আছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। এর আগে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৫৩ দিন চিকিৎসা শেষে ১৯ জুন বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া। এর পর থেকে গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় ছিলেন তিনি। খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আথ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। এপ্রিলে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। নানা শারীরিক জটিলতায় ২৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একপর্যায়ে তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস তিনি সিসিইউতে ছিলেন। ১৯ জুন বাসায় ফেরেন। এর মধ্যে করোনার টিকা নেওয়ার জন্য খালেদা জিয়া দুই দফায় মহাখালীর শেখ রাসেল ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে যান। ১৯ জুলাই করোনার প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার পর ১৮ আগস্ট দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেন তিনি। দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান। করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২৫ মার্চ সরকার শর্ত সাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। এ পর্যন্ত তিন দফায় খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়ার শর্তসাপেক্ষে এ মুক্তিকে ‘গৃহবন্দি’ বলছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন করা হলেও সরকার তা নাকচ করে দেয়। তাকে দেশে থেকেই চিকিৎসা নিতে হবে বলে শর্তও দেওয়া হয়।