বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : বিরামপুরে পারিবারিক পুষ্টি বাগান দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পতিত ও স্বল্প পরিমাণ জায়গাতে শাক-সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে নিরাপদ ভাবে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পুরণের লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ প্রথমে পারিবারিক পুষ্টি বাগান তৈরি করে দিলেও প্রতিবেশি পরিবারগুলোএর সুফল দেখে এখন নিজেরাই পারিবারিক পুষ্টি বাগান তৈরিতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নিকছন চন্দ্র পাল জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক কোন জমি ফেলে না রাখার লক্ষ্যে বাড়ির উঠান, খুলিয়ানসহ বাড়ির আশে পাশে যার যতটুকু পতিত জায়গা আছে সেখানেই শাক-সবজি উৎপাদনে লোকজনকে উদ্বুদ্ধ করা হয়। তাদের আগ্রহ বাড়াতে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সব ধরণের উপকরণ ও সার-বীজ দিয়ে বিভিন্ন গ্রামে ১৪টি পারিবারিক পুষ্টি বাগান তৈরি করে দেওয়া হয়। এসব পুষ্টি বাগান থেকে কৃষকরা বিষমুক্ত নিরাপদ শাক সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত সবজি বিক্রি করে বাড়তি উপার্জন করতে পারছেন। কৃষি বিভাগের শুরু করা এই সাফল্য দেখে অনেকেই এখন নিজ উদ্যোগে পুষ্টিবাগান তৈরি করছেন। মুকুন্দপুর ইউনিয়নের ভেলারপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম মন্ডল ও মিলন মিয়া জানান, তাদের বাড়ির পাশে পতিত জায়গায় কৃষি বিভাগ যাবতীয় সহায়তা দিয়ে পুষ্টিবাগান তৈরি করে দিয়েছে। এই বাগানে তারা লাল শাক, পুঁইশাক, ঢেড়ষ, বরবটি, বেগুন, মরিচ, লাউসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেছেন। সেখান থেকে তারা নিরাপদ শাক-সবজি উৎপাদন করে নিজের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত শাক-সবজি বিক্রি করতে পারছেন। তাদের দেখাদেখি এখন অনেকেই নিজ উদ্যোগে পুষ্টি বাগান তৈরি করছেন। মুকুন্দপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক পুষ্টিবাগানে কীটনাশক মুক্ত নিরাপদ শাক-সবজি উৎপাদনে আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে থাকি। বর্তমানে উপজেলার কৃষকদের মাঝে পারিবারিক পুষ্টি বাগান ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।