বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু হাসান ও সাধারন সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও জালিয়াতি মূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আজ বুধবার (২০ ই অক্টোম্বর ২১) বগুড়া প্রেসক্লাবে গাবতলী থানা ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন । সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গাবতলী থানা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও সভাপতি প্রার্থী মোহতাছিন বিল্লাহ মুন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন, বিপ্লব হাসান, আল আমিন, গাবতলী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মাহমুদুল হাসান মোহন, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বিপ্লব মিয়া ও শামীমুর রহমান আল আমিন, জাহিদ হাসান। সংবাদ সম্মেলনে তাদের অভিযোগ, বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু হাসান ও সাধারন সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান গাবতলী উপজেলা ছাত্রদলের সম্মেলন ও নির্বাচন উপলক্ষে যে ভোটার তালিকা তৈরি করেছেন তার অধিকাংশই ছাত্রদলের সদস্য নয়। অবৈধভাবে তাদেরকে রাখা হয়েছে। তারা বলেন, দলের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই আজকের এই সংবাদ সম্মেলন। আমরা এর আগে গাবতলী প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু হাসান ও সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রিগান এর অনিয়ম দুর্নীতি ও জালিয়াতিমূলক কর্মকান্ডে বিরুদ্ধে আমরা একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলাম কিন্তু কোন প্রতিকার হয় নাই তাই আজ আবারো তাদের অনিয়ম দুর্নীতি ও জালিয়াতি বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন। এই সংবাদ সম্মেলনের তাদের অনিয়ম দুর্নীতি ও জালিয়াতি তুলে ধরে আমরা গাবতলী থানা ছাত্রদলের এই প্রহসন নির্বাচন আমরা বয়কোট ঘোষনা করলাম। তারা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ ইকবাল হোসেন শ্যামল বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রিগানসহ সহ-দপ্তর সম্পাদক মাধ্যমে দুর্নীতি পক্ষপাতিত্ব নীতিহীন অপকর্ম অনিয়ম ও আচরণ আমরা গাবতলী থানা ছাত্রদলের নির্বাচনী অনিয়ম লিখিত বক্তব্যেও মাধ্যমে তুলে ধরে, ১. প্রথমত নির্বাচন কমিশনার গঠন করা হয়নি। ২. কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সহ দপ্তর সম্পাদক মাধ্যমে অবৈধ প্রার্থী বৈধ ঘোষণা ও জালিয়াতি ভোটার তালিকা প্রকাশ। ৩. ১৭ শে সেপ্টেম্বর ভোটার তালিকা প্রকাশ করে সেই খসড়া ভোটার তালিকায় কোন নির্বাচনের কমিশনারের স্বাক্ষর নেই। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার কথা ছিলো ৩০ শে সেপ্টেম্বর কিন্তু তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। দুঃখের বিষয় সুখানপুকুর ইউনিয়নের একজন ছাত্রদলের সদস্য কে ছাত্রলীগ হিসেবে ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়, কিন্তু তারা বিগত দিন থেকে বিএনপির পরিবার হিসাবে চিহ্নিত। ৪. ২-৩ তারিখে মনোনয়ন ফরম উত্তোলন ও জমা দোয়ার তারিখ ঘোষণা করে সে অনুপাতে ১৪টি ফর্ম উত্তোলন ও জমা হয় কিন্তু অদৃশ্য ভাবে রাতের আধারে আরও ১০ টি মনোনয়ন ফর্ম ৪ তারিখে উত্তোলন ও জমা দেওয়া হয়। এতে কওে সর্বমোট ২৪ জন প্রার্থী গাবতলী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পায়। ৫. মনোরম ফর্ম উত্তোলন ও জমা হয় বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সহ দপ্তর সম্পাদক কাছে কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের কাছে ফর্ম জমা ও উত্তোলন কথা ছিলো। ৬ তারিখে মধ্যে প্রার্থী খরসা তালিকা প্রকাশ, ৭ তারিখে প্রার্থী প্রত্যাহার, ৮ তারিখে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করার কথা ছিলে কিন্তু সেটা ১০ তারিখে করেছে দুর্নীতিবাজ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। ৬ . আমরা আমাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আমাদের কে জানিয়ে দেন যে প্রার্থী প্রত্যাহার কোন সুযোগ নেই আমরা যদি আমাদের এই গণতান্ত্রিক অধিকার না পাই তাহলে বাকি ১৪ টি প্রার্থী কিভাবে তাদের প্রার্থীতা রাতের আধারে প্রত্যাহার করার সুযোগ পেলো? ৭. কারন আমাদেরকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারে কোনো সুযোগ দেয়নি। একজন প্রার্থীর সদস্য পদ বাতিল করে আবার তাকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করেছে, আর ১৩ জন প্রার্থী সদস্যপদ ঠিক রেখে প্রার্থী প্রত্যাহার করা হলো, নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী ফরম তোলার আগে সে ব্যক্তি ওই সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। কিন্তু সে মনোরম পত্র দাখিলের পর তার সদস্যপদ বাতিল করে কিন্তু প্রার্থী বৈধ ঘোষণা করেন এটা কি নির্বাচনের বৈধ প্রার্থী হতে পারে? ৮. তার প্রার্থী যদি বৈধ হয় তাহলে সদস্যপদ কি কারণে বাতিল করলো। এতেই প্রমাণিত হয় যে তার প্রার্থী বৈধ না অবৈধ। ৯. বর্তমান জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যে ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে স্থান পেয়েছে হত্যা মামলার আসামী, প্রবাসী তাদের এই কর্মকান্ড এইটাই প্রকাশ করে তাদের এই কর্মকান্ডে আজ ছাত্রদল কলঙ্কিত। ১০. একজন প্রার্থী ও তার সহযোগীরা কিভাবে নির্বাচনকে ঘিরে প্রধান অতিথিকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শুভেচ্ছা ও স্বাগতম জানাতে পাওে এতে স্পষ্ট প্রার্থীরা তারা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে. এতে সাংগাঠনিক টিমকে জানানো হলেও আমরা তার কোন সুফল পাইনি। ১১. কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও রাজশাহী বিভাগীয় দায়িত্ব প্রাপ্ত টিম প্রধান সাজিদ হাসান বাবু ভায়ের সাথে ফোনে এই সকল জালিয়াতি বিরুদ্ধে কথা বললে তিনি সকল সত্যতা স্বীকার করেন এবং আমাদের অভিযোগ যুক্তি সংগতবলে স্কীকার করেন কিন্তু দুঃখে বিষয় এই যে, তিনি সকল কিছু তদন্ত সাপেক্ষে প্রমান হাতে পাওয়ার পরেও আমাদের এই সিদ্ধান্ত দেন যে, আমাদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের বাহিরে যাওয়ার এখতিয়ার নাই। আমরা উপর মহল থেকে নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত কোন কিছু করতে পারবো না। তার এই কথায় আমাদের মনে সংশয় জাগে যে এই উপর মহলের লোকটা কে? ১২. গাবতলী থানা ছাত্রদলের সম্মেলন কোন ব্যক্তি স্বার্থ রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে গাবতলী শহীদ জিয়া কলেজে তথা পৌর এলাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে? ১৩. ভোটার তালিকায় রাজপথে থাকা চিহ্নিত ইউনিয়ন ছাত্রদলের অনেক সদস্যকে ছবি ও মোবাইল নাম্বার পারিবর্তন করে ভোটার তালিকা প্রকাশ করে কার ব্যক্তি স্বার্থ রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে এবং সঠিক ভোটার বাদ দিয়ে যাদেরকে কে ভোটার করা হয়েছে তাদের মাঝে অনেকেই ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য ফরম পূরণ করে নাই। তার কল রেকর্ড আমরা আপনাদের কাছে তুলে ধরলাম।