বগুড়ায় কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোস’ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বগুড়ার উপশহর এলাকায় বিয়াম মডেল স্কুল এন্ড কলেজ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল এন্ড কলেজের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা দেয়াল লিখন,চিত্রাংকন,প্রতিবাদী গান,হাতে জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন প্লাকার্ডের মাধ্যমে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেন। এদিকে বিকেলে শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকাতেও একই কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসুচি পালন শেষে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল এন্ড কলেজের সামনে থেকে সুলতানগঞ্জপাড়ার হাকিড় মোড়ের দিকে যেতে থাকলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে তাদের মূল সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়ে স্নিগ্ধা আবাসিকের ১৩ নম্বর রোডের একটি খেলার মাঠের দিকে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেয়া এক শিক্ষার্থী বলেন,’কোটা সংস্কার আন্দোলনে আমাদের অনেক ভাই-বোন নিহত হয়েছেন। তাদের বীরগাঁথা আত্মত্যাগ স্মরণ করতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আমরা সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা এখানে জড়ো হয়েছি। গানে গানে, দেয়াল লিখনের মাধ্যমে আমরা নিহতদের স্মরণ করছি। আমরা শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে আমাদের শিক্ষকদেরও পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করছি।’ অপর এক শিক্ষার্থী বলেন,কোটা আন্দোলন ঘিরে সারা দেশে বর্বরতা ও গণহত্যা চালানো হয়েছে, যা ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বগুড়ার উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর জালাল উদ্দীন বলেন,‘শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছে। তবে রাস্তায় যানজট তৈরি হয়েছিল তাই তাদের মিছিল মূল রাস্তা থেকে সরিয়ে স্নিগ্ধা আবাসিকের ভেতরের রাস্তায় যেতে বলা হয়েছে। অপরদিকে, শিক্ষার্থীরা আজ বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বিকেলে শহরের জলেশরীতলা এলাকাতেও কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোস’ কর্মসূচি পালন করেছে। বিকেল ৪ টার দিকে শিক্ষার্থীরা জলেশ্বরীতলায় জেলখানা মোড়ে জমায়েত হতে থাকলে পুলিশ বাধা দেয়। বাধা পেয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নূর মসজিদ হয়ে কালিবাড়ী মোড়ে এসে অবস্থান নেন। তারা সেখানেই রাস্তায় বসে অংকন করাসহ স্লোগান দেন। এসময় শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদী গান, হাতে জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন প্লাকার্ডের মাধ্যমে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেন। জলেশ্বরীতলায় বিকেল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করা হয়।